জাবেদের অর্থ পাচার থামেনি, এস আলম-আরামিট গ্রুপের যোগসাজশ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এখনো দেশ থেকে অর্থ পাচার করছেন। তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কিছু কর্মচারী ও এস আলম গ্রুপের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করছে টাকা।

৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কত টাকা পাচার হয়েছে তার সঠিক তথ্য না থাকলেও, চলতি অক্টোবর মাসে ২টি পাচারের তথ্য এসেছে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের হাতে। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৮ দেশে ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাবি, এই পুরো টাকা দেশ থেকে পাচার করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে এসব তথ্য। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই পলাতক জাবেদ। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। 

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ফাইল ছবিএদিকে, নানা কৌশলে এখনো চলছে জাবেদের অর্থ পাচার। এ সংক্রান্ত দুটি রশিদ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের হাতে এসেছে। গেল ৫ ও ৭ অক্টোবর এস আলমের গ্রুপের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান এমএস নুরজাহান ট্রেডার্সে ১২ লাখ টাকা পাঠায় আরামিট গ্রুপ। পরে হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সেই টাকা চলে যায় বিদেশে জাবেদের কাছে। যার প্রমাণ মিলেছে দুপক্ষের ফোনালাপে। 

ফোনালাপে হুন্ডি ব্যবসায়ী জাহিদ আরামিট গ্রুপের এজিএম আব্দুল আজিজকে বলেন, ‘আজিজ ভাই কোথায় টাকা পাঠাব জানান, বাকি টাকা কতক্ষণে দেব জানান।’ এ সময় অপর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সময় লাগবে, সময় লাগবে।’

শুধু তাই নয়, আরামিট গ্রুপের এক কর্মকর্তার ফোনালাপেও উঠে এসেছে জাবেদের অর্থ লেনদেন এখনো চলছে। 

আরামিট পিএলসির সহকারী কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মুবারক জাফরকে ফোনালাপে বলেন, ‘মোবারক সাহেব এবং মন্ত্রী সাহেব মিলে এগুলো করছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, চেক কী জন্য, কাকে দেবেন? বলছে না। খুরশেদ পরিবহনের নাম দিয়ে টাকা যাচ্ছে আরেক অ্যাকাউন্টে, নুরজাহান ট্রেডার্স, মালিক এস আলম গ্রুপ। উনাদের আত্মীয়স্বজন এরা।’

গেল সেপ্টেম্বরে জাবেদের আরামিট গ্রুপকে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় দুদক। বর্তমানে জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অর্থ পাচারের ১১টি মামলা তদন্ত করছে দুদক। জব্দ করা হয়েছে তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের প্রায় শত কোটি টাকা।