ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফর

রাষ্ট্রপতি, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, আশিক চৌধুরী.…বৈঠকে ব্যস্ত দিন কাটল তাঁর  

বাংলাদেশে তাঁর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ ব্যস্ত সময় কেটেছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বঙ্গভবনে গেছেন দুপুরে। এর আগে-পরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি – তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গেও।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। রাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের আয়োজনে নৈশ ভোজে অংশ নেন।

এরপর আজ দুপুরে বঙ্গভবনে যান শেরিং তোবগে। বঙ্গভবনের ক্রেডেনসিয়াল হলে তাঁরা এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন। বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভুটানের সাথে বাংলাদেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর হবে। তিনি আশা করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়, রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গেছেন সেখানে।

রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: ফেসবুক

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এরপর সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বাসস জানিয়েছে, রাত ৮টার দিকে বিএনপির প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে শেরিং তোবগের সঙ্গে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

এর মাঝে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বৈঠকে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এ সময়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম-গেলেফু করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটানের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: ফেসবুক

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে জি-টু-জি অংশীদারত্বে নির্মাণাধীন কুড়িগ্রাম স্পেশাল ইকোনমিক জোন ভুটানের আসন্ন বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন কুড়িগ্রাম ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, কুড়িগ্রাম ও গেলেফু আমাদের যৌথ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের পরিপূরক ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে।