ঢাকার মাটিতে নেমে জনতার উদ্দেশে ছুটেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পূর্বাচলে ৩০০ ফিট এলাকায় চলছে তাঁর জন্য অপেক্ষা। তিনি বক্তব্য দেবেন, দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বলবেন দেশবাসীর উদ্দেশে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বাসে পূর্বাচলের দিকে রওনা হন তারেক রহমান। ব্যাপক নিরাপত্তায় যাচ্ছে তাঁকে বহনকারী বাস।
টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত লাইভ ভিডিওতে দেখা গেছে, তারেক রহমানকে বহনকারী বাস ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। সামনে–পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি। সড়কের দু পাশে অগণিত মানুষ। তাঁকে দেখে হাত নাড়ছে জনতা। তারেক রহমানও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
৩০০ ফিট এলাকায় রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিমানবন্দরে নামেন তারেক রহমান। তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান তাঁর শাশুড়ি, স্বজন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। পরে বিমানবন্দরে ভিআইপি গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালি পায়ে কিছুক্ষণ ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন, ছুঁয়ে দেখেন দেশের মাটি।
এর আগে সকাল ১০টার আগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে কিছুক্ষণ যাত্রবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪ মিনিটে সিলেট বিমানবন্দর ত্যাগ করে তাদের বহনকারী ফ্লাইট।
তারেক রহমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে সকালে নিজের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’ পরে সিলেটে পৌঁছে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে!’
তারেক রহমান পূর্বাচল ৩০০ ফিটের সংর্বধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পরে মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তিনি। পরে ফিরবেন গুলশানের বাসায়।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ১২টা ১৭ মিনিটে (প্রথম প্রহরে) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান। তারেক রহমানের সাথে একই বিমানে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারা এসেছেন বিজি ২০২ ফ্লাইটে।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আটক হয়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে ঢাকা ছাড়েন তিনি।