১৭ বছরেও বিচার শেষ হয়নি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দুই মামলার। বিস্ফোরক আইনের মামলায় এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। আর হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের রায়ের পর চার বছর ধরে অপেক্ষায় আপিল বিভাগে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, বিস্ফোরক মামলার অনেক সাক্ষী জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, তাপসসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার দাবি করায় আসামি করা হবে তাঁদেরও।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, পিলখানায় বিদ্রোহের নামে চলে নৃশংস হত্যা। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হন ৭৪ জন। এ নিয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। প্রতিটিতে আসামি সাড়ে ৮০০ এবং সাক্ষী প্রায় ১৩০০ জন।
হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে আপিলের রায়ে, ১৩৯ জনের দণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। চূড়ান্ত নিষ্পতির জন্য চার বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে। আইনজীবীরা বলছেন, এটি নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এস এম শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ইস্ট পাকিস্তান হাইকোর্ট, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টেই না এটি এশিয়া কেন, আমার মনে হয় সমগ্র বিশ্বে এটি সবচেয়ে বড় মামলা। এ মামলার শত শত সাক্ষী রয়েছে।’
এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় বিশেষ আদালতে চলছে বিস্ফোরক মামলার বিচার। ১২ শতাধিক সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩০০ জন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, অনেকের সাক্ষ্যে শেখ হাসিনা, তাপস, নানক, মির্জা আজমের নাম আসায় তাদেরও আসামি করা হবে।
বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘ন্যায়বিচার বলতে, যারা প্রকৃত আসামি তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। বিবিধ কারণে এটি বিলম্ব হয়েছে। আগামীতে আমরা যেভাবে সাক্ষ্য নিতে চেষ্টা করছি, তা পাওয়া গেলে প্রসিকিউসনের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
বিডিআর বিস্ফোরক মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার পক্ষ থেকে যদি মনে করে যে, এই ইনভেস্টিগেশন আবার হওয়া প্রয়োজন সেটি হতে পারে। তবে আপনারা দেখেছেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের বলা হয়েছে আরেকটি কমিশন করা হবে।’
আসামির আইনজীবীরা জানান, হত্যা মামলায় খালাস বা সাজা খাটলেও, অনেকে বিস্ফোরক মামলার কারণে জেল খাটতে বাধ্য হন। অবশ্য অন্তবর্তী সরকারের সময়ে বিস্ফোরক মামলা থেকে ৩০০ জনকে জামিন দেওয়া হয়।