মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর যত ঘনিয়ে আসছে, ঈদের ছুটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাকরিজীবীদের আগ্রহ বাড়ছে। বেতন ও বোনাসের বাইরে অফিসপাড়ায় এখন বড় আলোচনার বিষয় - কবে ঈদ হতে পারে, এবার ছুটি কতদিন মিলতে পারে।
ঈদ কবে হতে পারে, সেটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে। রোজা ২৯টি হবে না ৩০টি, তার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ ঈদের চাঁদ দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, রমজান মাস ২৯ দিনের হলে ঈদ ২১ মার্চ, আর রমজান ৩০ দিনের হলে ঈদ ২২ মার্চ উদযাপিত হতে পারে।
সরকার অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি পাঁচ দিন নির্ধারিত রয়েছে। ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ২১ মার্চ ধরে নিয়ে ঈদের ছুটি ধরা হয়েছে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত।
তাহলে ঈদের ছুটি কতদিন, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা কেন? কারণ, সরকারি পাঁচ দিন ছুটির আগে-পরে দুই দিকেই ক্যালেন্ডারে অন্যান্য ছুটি আছে। ঈদের আগে কিংবা পরে থাকা ছুটিগুলোর কোনো একটিকেও যদি ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে ঈদে টানা দীর্ঘ ছুটি পড়বে।
ঈদের ছুটির আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি রয়েছে। ১৮ মার্চ একদিন অফিস খোলা থাকবে। এরপর ১৯ মার্চ থেকে শুরু হবে ঈদের পাঁচ দিনের ছুটি। ঈদের পর ২৪ ও ২৫ মার্চ কর্মদিবস। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। তারপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।
সে হিসাবে সরকারি চাকরিজীবীরা চাইলে ২৪ ও ২৫ মার্চ নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। আবার ১৮ মার্চও ছুটি নিলে শবে কদর থেকেই দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করা সম্ভব।
সরকারি ছুটির প্রভাব সাধারণত বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেও পড়ে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ছুটির সময়সীমা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগেই ছুটি হয়ে গেছে
রমজান উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই ছুটিতে গেছে। কলেজের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কলেজ। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে কলেজ খোলার কথা রয়েছে।
ঈদে বাড়তি ছুটির ধারা শুরু হয়েছে আগেই
বাংলাদেশে আগে ঈদের সরকারি ছুটি ছিল তিন দিন। ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও পরের দিন — এই তিনদিন ছুটিই ছিল প্রচলিত নিয়ম। তবে ঈদের সময় যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছুটি বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়িয়ে পাঁচদিন করা হয়েছিল। গত বছর অতিরিক্ত একদিন ছুটি যোগ হওয়ায় তুলনামূলক স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলেন অনেকে।
প্রতি বছর ঈদের আগে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন। এতে মহাসড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ছুটি তুলনামূলক বড় হলে এই চাপ কিছুটা কমে।
ঈদের ছুটি প্রসঙ্গে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে একটা সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ওই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব। পাশাপাশি নতুন করে আর কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে ভোগান্তি কমবে সেটা ঠিক করা হবে।’