মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ঢাকা থেকে সোমবার ৩৪টিসহ এ পর্যন্ত বাতিল ৯৭ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সোমবার ঢাকা থেকে বাতিল হয়েছে ৩৪টি ফ্লাইট। এ নিয়ে তিন দিনে ঢাকা থেকে বাতিল হলো ৯৭টি ফ্লাইট। আকাশসীমা বন্ধ করেছে সাতটি দেশের। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফ্লাইট বাতিল ঘোষণার এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিমানবন্দরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ভোগান্তিতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা। নতুন টিকিট ইস্যু ও রিফান্ড নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাতিল হওয়া ফ্লাইটের অনেক যাত্রী।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে আকাশপথে ভ্রমণে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো দূরপাল্লার যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীরাও ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় পড়েছেন দুর্ভোগে। তাঁদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের নতুন টিকিট ইস্যু বা রিফান্ড পাওয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বলছেন, এয়ারপোর্টে এসে যদি শোনা যায়, ফ্লাইট বন্ধ। এটি তো যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তি। এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন। কখনো তারা বলছেন, এয়ারপোর্টে থাকতে আবার কখনো বলছেন চলে যেতে। 

মধ্যপ্রাচ্যের  ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রীরাও তাদের অন্য ফ্লাইট ধরতে না পারায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

যাত্রীরা জানান, দুদিন ধরে অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুনতে হচ্ছে ফ্লাইট বাতিল হয়ে গিয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় সোমবার সকালে চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ডিপার্চার ফ্লাইট ও ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি ডিপার্চার ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।

সংঘাত চলমান থাকলে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।