ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত পর্যটনকেন্দ্রগুলো

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত পর্যটনকেন্দ্রগুলোয়। এরই মধ্যে হোটেল-মোটেলে বুকিং হয়েছে ৯০ ভাগ রুম। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন জেলায় পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সতর্ক আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। 

ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি চলছে। এবারও দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরে প্রস্তুতিও চলছে সেভাবে।

পর্যটক বরণে তৈরি হচ্ছে সাড়ে চারশোর বেশি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। ব্যবসায়ীরা জানান, বেশিরভাগ রুমই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্যও আয়োজন রাখছে বড় হোটেলগুলো। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনও তৎপরতা বাড়িয়েছে।

কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের এক কর্মকর্তা জানান, পুরো হোটেল ডেকোরেট করছি। আমাদের এখানে ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ বন্ধের (ছুটির) মধ্যে অতিথিদের জন্য বিশেষ বুফে ডিনার থাকবে।

পর্যটকদের জন্য রুমের ভাড়ায় সাশ্রয়ী প্যাকেজ রেখেছেন বলে জানান আরেকটি আবাসিক হোটেলের এক কর্মকর্তা।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, 'আমাদের পক্ষ থেকে সর্বত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের তিন স্তরবিশিষ্ট বিশেষ নিরাপত্তা রয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সিভিলে আমাদের কিছু গোয়েন্দা টিম থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের পোশাক পরিহিত টিম থাকবে।' 

একই সৈকত থেকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে কুয়াকাটায় ভিড় করেন অনেকেই। এবারও চিত্র ভিন্ন হবে না। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছে এখানকার ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যে দীর্ঘ একমাস বিক্রি করতে পারি নাই, আশা করি ঈদের পরে বিক্রি ভালো হবে।

রোজার সময় দীর্ঘ একমাস বিক্রি কম থাকায় লোকসান হয়েছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটির সময়টায় পর্যটকদের আগমনে সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চান তারা।

মৌলভীবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্টরাও এবার ভালো ব্যবসার আশা করছেন। জেলার অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসে আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের পরে এক সপ্তাহ এসব হোটেলে পর্যটকরা থাকবেন।

স্থানীয় একটি রিসোর্টের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন যে রিপেয়ারিংয়ের বিষয়গুলো ছিল সেগুলো আমরা সম্পন্ন করেছি।

পর্যটকের জন্য চাপাতার সিজনে নতুন নতুন চাপাতা সংগ্রহ করার কথা জানালেন মৌলভীবাজারের এক ব্যবসায়ী।

এদিকে, টানা বন্ধে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সাজেকে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। পাহাড়ে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসনও।

খাগড়াছড়ির ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তামূলক সেবা দিতে পর্যটক স্পটে পুলিশের টহল টিম রাখার চেষ্টা করছি। প্লাস সিভিল টিম থাকবে। যেকোনো ধরণের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা সচেষ্ট থাকব।’ 

রমজানে পর্যটক না আসার ক্ষতি, ঈদের লম্বা ছুটিতে পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা।