বয়স হলেও এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হাম নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনে দেশের হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি সামনে এনে রুমিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘পিতার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে আর ভারী কিছু হতে পারে না। এই যে আমরা যে পরিসংখ্যানগুলো দিচ্ছি মাননীয় স্পিকার, এই শিশুগুলো কোনো না কোনো পিতার কাঁধে করে কবরে গেছে। সুতরাং এটাকে কোনো পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে, একটা মায়ের কান্না, একটা পিতার আর্তনাদ, একটা পরিবারে যে চিরদিনের জন্য শোক নেমে আসে, আমরা সেটার দিকে একটু তাকাই।’
এ সময় একটি পত্রিকার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে রুমিন বলেন, ‘শুধু হাম নয়, ১০ রোগের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে দেশে।’
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওনার প্রতিটা কথার উত্তর দিয়েছি সম্মানের সাথে, ওনাকে অ্যাভয়েড করিনি। সন্তানের পিতা আমরা সবাই। কাজেই আমাদের দরদ আছে। সন্তানের মৃতদেহ পিতার কাছে কত ভারী, এটাও কিন্তু জানি। আমি কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষ। যদিও অনেক তরুণ দেখা যায়, কিন্তু আমার বয়স হয়েছে। ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই অ্যাম ফিট।’
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি হামের ওয়ার্ড ভিজিট করেছি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এবং মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে আমি কান্না করেছি আইসিইউ না থাকায় প্রথম শিশুর মৃত্যুর পর। তবে আমার মনে হয় না আপনি কোনো ওয়ার্ডে গেছেন। কাজেই আমি কিন্তু বুঝি। আমার সন্তানেরও কিন্তু হাম হয়েছিল। আমার সেই অভিজ্ঞতা আছে।’
রুমিন ফারহানাকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় সদস্য পরিসংখ্যান ক্রসচেক করবেন। আমাদের সরকার জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষায় বলা হচ্ছে ৪১ জন শিশু আমাদের এখানে হামে মারা গেছে।’
হামের টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হাম হলেই আমাদের সব শিশু ধ্বংস হয়ে যাবে... করোনার সময়ও বলা হয়েছিল যারা ভ্যাকসিন নিচ্ছে সকল মানুষ পঙ্গু হয়ে যাবে, কিডনি নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের কিডনি এখনো ঠিক আছে, আমিও টিকা নিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে আশঙ্কা থাকবে কিন্তু মানুষকে আশঙ্কায় ভুগতে আমরা দেব না। প্যানিক তৈরি করা যাবে না। আমরা কিন্তু ফাইট করছি এটার বিরুদ্ধে।’