যুক্তরাস্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুজন বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের ছয় দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুজনের পরিবারের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নিখোঁজ জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কাছের মানুষ ও পরিচিতরা বলছেন, তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়, তাঁরা কাউকে না জানিয়ে উধাও হওয়ার মানুষ নন। দ্রুত তাদের সন্ধানের দাবি সবার।
স্থানীয় সময় গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় জামিল তার অ্যাভালন হাইটসে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছেন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে গেছেন। বেলা ১১টায় তার ফোন সবশেষ তার অ্যাপার্টমেন্টের কাছেই ট্রেস করা গেছে। একই দিন সকাল ১০টায় বৃষ্টি ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও লাঞ্চ বক্স রেখে চলে গেছেন, সঙ্গে ছিল শুধু পার্স ও ফোন। বিকেল ৫টায় তার ফোন সবশেষ ক্যাম্পাস এলাকায় ট্রেস হয়। দুজনের পাসপোর্টই পাওয়া গেছে, অর্থাৎ নিজ ইচ্ছায় দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা না।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। অপহরণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে শুরুতে পরিবারকে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়। কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র না পাওয়ায় পাঁচ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে জামিল ও বৃষ্টির পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস নিশ্চিত হয়েছে যে দুজনের কেউই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থার (আইস) হেফাজতে নেই। তদন্তে এফবিআইকে যুক্ত করার অনুরোধ করেছে দূতাবাস।
ওই শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে আরেকটি বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির আলোচনায় উঠে এসেছে। গত তিন বছরে আমেরিকার সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির ফিউশন সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ১১ জন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা হয় রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন, নয়তো নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র, মহাকাশ গবেষণা, ফিউশন এনার্জি এমনকি ইউএফও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
নিখোঁজ জামিল পিএইচডি করছেন জিওগ্রাফি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিসিতে, আর বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এই বিভাগগুলো সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে পরিবেশ বিজ্ঞান ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবেদনশীল গবেষণার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারে। নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে আগের কিছু ঘটনার মিলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে– যেমন পাসপোর্ট রেখে যাওয়া, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং কোনো আভাস না থাকা।
দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিল ও বৃষ্টির নিখোঁজের খবর শেয়ার করে উদ্বেগ জানাচ্ছেন অনেকে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন পুলিশ দেরিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল, কেন তদন্তে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই এবং তাদের একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।