প্রাক মৌসুমি বন্যার পানি লোকালয়ে ঢোকার শঙ্কা কম

প্রাক মৌসুমি বন্যায় হাওরে ফসলের ক্ষতি হলেও লোকালয়ে প্লাবনের শঙ্কা কম। নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের দিকে এগোচ্ছে বন্যার পানি। খোয়াই, ধনু, মগরাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হাওরে বন্যা দেখা দেবে। 

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমায় নতুন করে উজানের ঢল নামার শঙ্কা কম। 

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নেত্রকোণার ভুগাই-কংস নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে বইছে। দুই কূল ছাপিয়েছে সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানিও। এছাড়া, মৌলভীবাজারের মনু, হবিগঞ্জের খোয়াইয়ের পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। 

বর্ষার আগেই বন্যার মূল কারণ উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদরা জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে বৃষ্টি কমেছে। তাই নতুন করে উজানের ঢলের শঙ্কা নেই। 

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ  ড. আব্দুর রশীদ বলেন, 'রংপুরের সঙ্গে ময়মনসিংহ–সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। তবে আসাম–মেঘালয়ে অতি ভারী বর্ষণ হয়নি। যতটুকু বৃষ্টি হলো, আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বৃষ্টিটা হয়েছে।' 
  
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জের, খোয়াই, ধনু, বাউলাই, কালনি, মগরা নদীর পানি কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন,অষ্টগ্রামের হাওরে ঢোকে। যা ভৈরব বাজার হয়ে মেঘনায় মেশে। তবে এই বন্যা হাওরে ফসলের ক্ষতি করলেও লোকালয়ে ভোগান্তির শঙ্কা কম। 

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের  নির্বাহী প্রকৌশলী মানজুর রহমান বলেন, 'এটা জনমানবকে ক্ষতি করার মতো বন্যা নয়। এই বন্যাটা মূলত ফসলের ক্ষতি করে যাবে। উজানের যে পানি সেটা এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। অগ্রসর হচ্ছে– হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিম্নাঞ্চল দিয়ে মেঘনা নদীতে পতিত হবে।' 

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পূর্বাভাস, পয়লা মে'র পর সিলেট-সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে। তবে সেই সময় মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টি না হলে বন্যার বিস্তার না-ও ঘটতে পারে।