যাদের শ্রমে আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, তারা সঠিক স্বীকৃতি খুব কমই পান বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মহান মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তিনি বলেন, মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আমি বিশ্বের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি— যারা ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম থেকে উঠে কর্মব্যস্ততা শুরু করেন; মাঠে, কারখানায়, গার্মেন্টসে যাদের শ্রমে আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, অথচ তারা সঠিক স্বীকৃতি খুব কমই পান।
ড. ইউনূস বলেন, গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি, যারা পরিবার ছেড়ে প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা দেশে পাঠান–দূর থেকে তারা আমাদের সকলকে টিকিয়ে রাখছেন এবং অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। সম্মান জানাই তাদেরও, যারা দেশের অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন: পোশাক শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ছোট দোকানকর্মী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা–তারাই সেই শক্ত ভিত্তি, যার ওপর সমগ্র অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারী শ্রমিকরা এখনো একই কাজের জন্য পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পান। বিশ্বের শ্রমশক্তিতে তাঁদের অংশীদারিত্ব সমান, এমনকি প্রায়শই বেশি, তা সত্বে ও তাঁদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না; প্রায়ই তাঁদের অবদান অদৃশ্যই থেকে যায়।
ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে শ্রমজীবী মানুষেরা একটি নতুন এবং জরুরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতগতিতে প্রতিটি শিল্পকে বদলে দিচ্ছে। মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যেই কোটি মানুষের জীবিকা ব্যাহত, চাকরি স্থানান্তরিত বা পুরোপুরি বিলুপ্ত হতে পারে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তি হওয়া উচিত মুক্তির হাতিয়ার। অটোমেশনের ক্ষমতা আছে শ্রমিকদের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও মর্যাদাহীন কাজ থেকে মুক্ত করার, নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টির এবং অগ্রগতির সুফল যেন কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করার।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত যাতে মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য নিয়োগকর্তাদের আদেশ পালন থেকে মুক্তি পায়, নিজেদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে পারে এবং দারিদ্র ও অমর্যাদা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারে।
নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আসুন, মহান মে দিবসে আমরা অঙ্গীকার করি–এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি যখনই চাইবে নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তার জন্য সমস্ত দরজা খোলা রাখবে যাতে সে নিজের পছন্দমতো কর্মজীবনের পথ বেছে নিতে পারে। কারো ভাগ্য যেন তাকে জীবিকার কেবল একটি পথেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য না করে।