‘জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা প্রমাণিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কি হয় তা ১৪/১৮/২৪ সালে জাতি দেখেছে।’–আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি বা স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বের সাথে আপস করলে সাময়িকভাবে লাভবান হওযা গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনা দুর্নীতির দিকে জনপ্রশাসনকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের ঘটনা তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
‘জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে কাজ করার জন্য ডিসিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। এই প্রস্তুতি থাকলে জনপ্রশাসন জনসেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ডিসিরাই জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করে, তাই সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, আড়াই মাসে কিছুটা পরিস্থিতিরই উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক না। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যে এই সরকার কাজ শুরু করেছে। সেই সময় দেশকে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর করে ফেলা হয়েছে। বিচার বিভাগ, শিক্ষা, দুদক সবই ছিল অকার্যকর, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। বর্তমান সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য জনভোগান্তি হয়েছে, তাও সরকার মোকাবিলা করে যাচ্ছে। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।’
বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা ডিসিরা জানেন, দেশকে বন্যা খরা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সততা মেধা, দক্ষতাই সরকারের নীতি, এসব দেখেই পদোন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি।’
ডিসিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের কাজ করতে হবে। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। জনগণের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না।’
সব জেলায় ছাত্র-ছাত্রীদের সংস্কৃতি বা খেলাধুলার প্রতিযোগিতা শুধু শীতকাল নয়, সকল মৌসুমে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে ডিসিদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরোপুরি বৈষম্য শেষ করা সম্ভব না, তবে ধর্ম-বর্ণ বৈষম্য না করে একটি নৈতিক রাষ্ট্র গঠন বিএনপি সরকারের চাওয়া।