লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ভোরে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে তারা লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল পাঁচটায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লিবিয়ার বেনগাজী শহর থেকে এই ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। 

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই দালালদের প্ররোচনা ও প্রলোভনে পড়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অবৈধ এই যাত্রাপথে লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাদের অনেককে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় অপরাধী চক্রের হাতে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

আজ সকালে বিমানবন্দরে ফিরে আসা এই বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় ফিরে আসা ব্যক্তিরা লিবিয়ায় কাটানো তাদের ভয়াবহ ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা সমাজের সবার সাথে বিনিময় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরার পর তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় পকেটখরচা (পথখরচা), জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আটকে রয়েছেন। তাদের নিরাপদে এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথ ও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।