শুধু বিদ্রোহী সত্ত্বা নয়, নজরুলকে জানতে হবে সামগ্রিকভাবে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ । শিল্পী ও গবেষকেরা বলছেন, শুধু বিদ্রোহ চেতনার বিচারে নয়, নজরুলকে দেখতে হবে গভীর মানবচিন্তা, সাম্যবোধ ও প্রেমের এক অভিন্ন দর্শনের কবি হিসেবে। তাদের মতে, তার প্রতিবাদ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অন্যায় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে চিরন্তন নৈতিক অবস্থান। প্রেম, মানবতা ও বিদ্রোহ তার কাছে আলাদা কিছু নয়, একই চেতনার ভিন্ন প্রকাশ। 

বিদ্রোহ, প্রেম আর মানবতার অবিনাশী কণ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তার শব্দ প্রতিবাদে মুখর; আবার কখনো তা প্রেমে উজ্জ্বল। নজরুলের সেই সুর আজও বেঁচে আছে শিল্পীদের কণ্ঠে, অনুভবে। নজরুলের গান মানে একদিকে শৃঙ্খল ভাঙ্গার আহ্বান; আরেকদিকে গভীর মানবিক কোমলতা। 

সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক বিজন মিস্ত্রী বলেন, 'বল নাহি ভয় নাহি ভয়, কারার ঐ লৌহ কপাট-এর মতো প্রতিবাদী গান ও কবিতা ব্রিটিশদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। তো এই দেশ মুক্ত করার জন্য উনার যথেষ্ট চেষ্টা ছিল।' 

নজরুলের গান ও কবিতা একইসঙ্গে প্রতিবাদ, মানবতা, সাম্য আর গভীর ভালোবাসার উৎস। গবেষকরা বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদের উর্ধে উঠে নজরুল মানুষের পরিচয়কে সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন। তাঁর লেখায় উঠে আসে সাম্যের আহ্বান, যেখানে বিভাজনের বদলে মানবতাই শেষ কথা। 

নজরুল গবেষক শাহিনুর রেজা বলেন, 'নজরুল লিখেছেন, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। অথচ মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস বলছে, শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। দুটো জিনিস একই। কোথায় চণ্ডীদাস বলেছে, কোথায় নজরুল বলেছে। বক্তব্য একটাই- মানুষ।' 

তার মতে, নজরুলকে আংশিকভাবে উপস্থাপন না করে পূর্ণরূপে তুলে ধরলেই তাঁকে আরও বেশি গ্রহণ করতে পারবে নতুন প্রজন্ম। 

শাহিনুর রেজা আরও বলেন, 'নজরুল জানবার জন্য সাংবাদিক নজরুলকে চিনতে হবে না, নজরুল যে রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করেছেন সেটি চিনতে হবে না, নজরুল যে একটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সেটি জানতে হবে না, নজরুল যে একটি পত্রিকার পরিচালক ছিলেন সেটি আমাদেরকে জানতে হবে না? কিন্তু কোনো শিল্পী এটি নিয়ে বলতে পারবে না, বা জানে না।' 

নজরুল আজও বার বার ফিরে আসেন… শব্দে, সুরে, প্রতিবাদের ভাষায়।