দিল্লিতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক

ভারতের নয়াদিল্লির মালব্য নগরে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার সকালে সংঘটিত মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এক্সে শেয়ার করা পোস্টে বলা হয়েছে, 'দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে হাই কমিশন।...শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা এবং এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে এবং উদ্ধার ও জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার প্রশংসা করছে।' 

এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক। আরও বলা হয়েছে যে, নিহত বিদেশিদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক।

তবে ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শেয়ার করা পোস্টে এই অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশির আহত হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি।

এক্স পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছে, 'এখন পর্যন্ত আহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে এবং অন্য দুইজন সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।'

বাংলাদেশ দূতাবাস আরও জানিয়েছে যে, তাঁরা 'সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা ও কল্যাণের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।' 

এর আগে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বেসমন্টে আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের ঘরগুলোতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, যে সময় হোটেলে আগুন লাগে, সেই সময় ৪০ জন ছিলেন ভরতরে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে, বেশির ভাগ লোকই আটকে পড়েন। আটকে পড়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে নীচে ঝাঁপ মারেন। কিন্তু ঘরে মধ্যে আটকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২০ জনের।

খবর পেয়েই প্রাথমিকভাবে দমকলের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দমকলের আরও কয়েকটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নেভানো এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। 

পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকে আতঙ্কে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে লাফ মেরেছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লোকজনের মধ্যে অনেকেই আহত।

জানা গেছে, দিল্লিতে হোটেলটির অবস্থান হওজ রানি লেনের ভেতরে। গলিটি ঘিঞ্জি এবং সরু। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোটেলে ২৫টি ঘর রয়েছে এবং সেখানে ৪০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক এবং তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন।

হোটেলটিতে যে সময় আগুন লাগে সে সময় সকলেই ঘুমাচ্ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে আগুন লাগার পরে তারা বেরিয়ে আসতে পারেননি। হোটেলের রাঁধুনি কেসর সিংহ জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় তিনি রান্নাঘরে ঢোকেন। বৈদ্যুতিক স্টোভ জ্বালাতে তিনি সুইচ অন করেন। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি তার।