বেনজীর আহমেদের বিলাসি জীবন যেন রূপকথার গল্প 

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিলাসি জীবন যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। রাজধানীর গুলশানে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট, মাদারীপুরে ২৫৮ বিঘা জমি, রিসোর্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছিল বিপুল অর্থের বিনিয়োগ।  আর এসব সম্পদের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলাও। 

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন বেনজীর আহমেদ। হয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক।  অবসর নেওয়ার আগে হয়েছিলেন আইজিপিও। তবে এসব পদ–পদবীর আড়ালে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তি। দুদকের অনুসন্ধান, আদালতের আদেশ এবং প্রকাশিত নথিপত্রে উঠে এসেছে বিলাসবহুল জীবনযাপন আর বিপুল সম্পদের এক বিস্ময়কর চিত্র।

রাজধানীর গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট একত্র করে তৈরি করা হয়েছিল একটি বিশাল ডুপ্লেক্স আবাসন। সেখানে ছিল সুইমিং পুল, মিনি থিয়েটার, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি সামগ্রী। আদালতের নির্দেশে প্রস্তুত করা জব্দ তালিকায় পাওয়া যায় ১৯টি ফ্রিজ, ১০০ টন এসি, ৭২২টি টি-শার্ট, ২৬৬টি প্যান্ট, ২২৪টি পাঞ্জাবি, ১২২টি শার্ট, ৩০টি ব্লেজার ও ৮টি স্যুট। এছাড়া ছিল কয়েক ডজন জোড়া জুতা, কেডস ও স্যান্ডেল।

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু বিলাসবহুল জীবনযাপন নয়, রয়েছে সম্পদের পাহাড়ও। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরের রাজৈরে বেনজীর আহমেদের নামে প্রায় ২৫৮ বিঘা জমির তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া গোপালগঞ্জ, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক দলিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি, গোপালগঞ্জে একটি রিসোর্ট প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দ ও ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে অন্তত ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ৮টি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ মালিকানা, আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে প্রায় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামে প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রী জীশান মির্জার নামে প্রায় ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বড় মেয়ে ফারহীন রিশতার নামে প্রায় ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ছোট মেয়ে তাহসীন রাইসার নামে প্রায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের ভেতরের সম্পদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য সম্পদের খোঁজেও অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে আইনি সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।