প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা বেশি 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরেতিস্তা প্রকল্প এবং শ্রমিক ইস্যুতে আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিনিয়োগ ও বাজেট বাস্তবায়নে দুটি দেশেরই সহায়তা আদায়ে জোর দিতে হবে। 

মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।

দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হবে রোববার থেকে। দুই দিনের জন্য যাবেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। পরে ২৩ জুন সেখান থেকেই যাবেন চীনের বেইজিং। তিন দিনের সফর শেষে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। 

আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও পরাশক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের এই কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।   

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভেরি স্মার্ট মুভ বাই দি ফরেন অফিস। চীনের মতো একটা পরাশক্তির ওখানে যাওয়ার আগে আগে মালয়েশিয়ায় যাওয়াটা এটা একটা একধরনের কৌশল হিসেবে কাজ করবে। তারমানে আপনি একেবারে চীনের দিকে ঝুঁকে গেছেন, এ ধরনের কথা কেউ বলতে পারবে না।’ 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওবায়দুল হক বলেন,‘কৌশলগত কারণে তিনি বেইজিং এবং দিল্লির এই দ্বন্দ্ব এড়াতেই মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। আমি মনে করি এটা একটা বুদ্ধিদ্বিপ্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়া কিন্তু আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
 
সফরে দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার ইস্যুতে জটিলতা এবং চীনের আগ্রহ তিস্তার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও এ যাত্রায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছবে না ঢাকা।  

ওবায়দুল হক বলেন,‘আমি মনে করি যে, এই সফরে তিস্তা থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা। শুধু যে ইনভেস্টমেন্ট তা নয়, আমাদের যে বাজেট সহায়তা দরকার, আমার মনে হয় চীন আমাদের পাশে দাঁড়তে পারবে।’  

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার কাছ থেকে বাংলাদেশ ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট যদি কিছু আনতে পারে তাহলে একটা ডাইভারসিফিকেশন হয়, প্রচুর শ্রমিক কাজ করছে। সুতরাং তারা যেন ডিসিপ্লিন্ড ওয়েতে কাজ করতে পারে, একইসঙ্গে নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারে এই ইস্যুগুলোও ওইখানে রেলেভেন্ট।’ 

এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি সার্ক সদস্য দেশে পর্যায়ক্রমে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।