নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্পিকার। স্পিকার জানান,  সংসদে প্রবেশ বা কক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসনে বসা বা ছাড়ার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন– বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলেন তিনি। 

এর আগে মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদ কক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এ বিষয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘এটি আগে কার্যপ্রণালি বিধিতে থাকলেও সংশোধনী এনে তা বাদ দেওয়া হয়।’

এর প্রেক্ষিতে আজ বাজেটের ওপর আলোচনার প্রাক্কালে স্পিকার বলেন, ‘রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং গত ১৭ জুন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক সংসদের সভাপতির প্রতি ঝুঁকিয়া সম্মান জানাবার বিষয়টি বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অফ অর্ডারে অনুরোধ জানান। বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে জানানো হবে মর্মে আমি জানিয়েছিলাম। সে প্রেক্ষিতে আমার পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি। কার্যপ্রণালি বিধিতে এই সংক্রান্ত বিধি ২০৬৭ (১)। সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য (বিধি-১) সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ কক্ষ করার সময় এবং তার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। ওই বিধিটি ২০০৬ সালে সংশোধন করে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’ 

স্পিকার আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সংসদে একটি রিপোর্ট উপস্থাপন করে। রিপোর্টটি ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়, যার মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির ওই সংশোধনীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতএব আমাদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ (১) বিধি হতে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সেহেতু মাননীয় সদস্যরা আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’