আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা সঠিকভাবে বুঝে পাওয়া গেলেও বিগত সরকারের উদাসীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় কূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর খিলক্ষেতে বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা জানান তিনি। সেমিনারে সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, মেরিন ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্তের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্ম, সুরক্ষিত কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতার মাধ্যমে সমুদ্রের ডেটা শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমুদ্র বিজ্ঞান কেন্দ্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায়।’
নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তজার্তিক আদালতে আমরা বিস্তীর্ণ সমুদ্র পেলাম, অঞ্চল পেলাম। সীমানা নিয়ে আমাদের প্রতিযোগী রাষ্ট্র যারা ছিল তারাও মেনে নিল। ভারত, বার্মা সেখানে অনুসন্ধান করেছে, প্রাকৃতিক সম্পদ পেয়েছে এবং তা উত্তোলনও করেছে। কিন্তু আমাদের সরকারের (বিগত সরকার) সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই সুফল আমরা পাইনি।’
সমুদ্র সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সেমিনারে।