মাদক মামলার জট কমাতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করা হবে, দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান।
বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসময় মন্ত্রী বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। এই সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী উঠবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। আইনি ভিত্তি শক্ত হলে পরিবর্তন আসবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।