চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অন্যদের প্রভাবিত করবে না, মত বিশ্লেষকদের

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র তথ্য বিনিময়, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য আলাদা আউটলেট খোলার সমঝোতাকে, ভালো অর্জন বলেও মত তাদের। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে সিন্ডিকেট ভাঙার পথ তৈরি করা দরকার ছিল বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র তথ্য বিনিময়ে ঐকমত্যের পাশাপাশি, বাণিজ্যিক করিডরের প্রস্তাব পায় বাংলাদেশ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিরক্ষা তথ্য আদান-প্রদান নতুন নয়। এ নিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির শঙ্কা দেখছেন না তারা। অনেক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও, চীনের বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায়, শুধু বাংলাদেশি পণ্যের আলাদা আউটলেট খোলার বিষয়ে সমঝোতাকে, বড় অর্জন বলছেন তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল আলম বলেন, ‘চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত বাজার থাকা সত্তেও, বাংলাদেশ কিন্তু চাইনিজ পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছে না। এই সময়ে চীন কিন্তু একটি উদ্দোগ নিয়েছে যে চীনের ৩২টি শহরে ৩২টি আউটলেট খুলবে।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণের পাশাপাশি দু-দেশের সর্ম্পক জোরদারে ভূমিকা রাখবে, বলছেন সাবেক এই কূটনীতিক।

সাবেক কূটনীতিক আশরাফ উদ দৌলা বলেন, ‘এটার মাধ্যমে কিন্তু একটি স্ট্যাটিজিক মেসেজ পাঠানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ যে তার পলিসি এবং নিজের স্বার্থে হবে, সেই দিকে তারা তাদের ফরেন পলিসি নেবে।’

তবে শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায়, সমাধানের পথ তৈরি হওয়া উচিৎ ছিলো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘মালয়েশিয়ার যে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট, সেখান থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা একটা বড় ধরনের লক্ষ্য ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যে বাংলাদেশে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট আরও বেশি বাড়ানো যায়।’

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ ঠিক রাখতে, কৌশলগত বিষয়ে বেশি নজর দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।