সাজা শেষ হলেও কারাগারে ১৫৭ বিদেশি, শেল্টারে রাখার পরিকল্পনা 

নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, ভারতসহ অন্তত ১৫৭ বন্দি সাজা শেষ হবার পরও আটকে আছেন দেশের বিভিন্ন কারগারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত দূতাবাসের অনিচ্ছা, প্রশাসনিক জটিলতা, ভুল ঠিকানার কারণে বন্দি বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। তাদের জন্য আলাদা শেল্টার হোমের পরিকল্পনা করছে কারা অধিদপ্তর। 

২০২৪ সালে রাজধানীর উত্তরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলায় গ্রেপ্তার হন নাইজেরিয়ার ওডুলুকওয়ে ফরচুন। বর্তমানে কাশিমপুরে হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি তিনি। বারবার চেষ্টার পরও ফরচুনকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।  

একইরকম হতভাগা ভারতীয় নাগরিক রামদেব মাহাতো। অনুপ্রবেশের দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড হয় রামদেবের। তবে ভুল তথ্যের কারণে তাকে ফেরত পাঠানো যাচ্ছিল না। ৬ মাসের সাজায় কারাগারে থাকেন ৬ বছর। পরে মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমে ভারতের বিহারের গ্রামের বাড়িতে ফেরেন রামদেব।  

মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী শামসুল হুদা জানান, বিদেশি অপরাধীরা নিজ দেশেও ভুল ঠিকানা দেন। বেশিরভাগ বন্দি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঠিকানা পাওয়া যায় না। এর সাথে প্রশাসনিক জটিলতা ও অসহযোগিতাও রয়েছে। 

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন জানান, তাদের জন্য আলাদা শেল্টার হোমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিদেশি বন্দিদের শেল্টার হাউসে রাখলে পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।  

মাদক চোরাচালান, স্বর্ণপাচার, প্রতারণা, জাল ডলার ব্যবসা, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাজা শেষ হওয়া বিদেশি বন্দিরা।