চালু হলো ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা, ইতিবাচক সম্পর্কের আশা বিশ্লেষকদের

পর্যটন ভিসা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, পারস্পরিক স্বার্থেই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দুই পক্ষের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে প্রায় দুই বছর পর্যটন ভিসা বন্ধ রেখেছিল ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর কোনো সুরাহা হয়নি। আজ থেকে শুরু হয়েছে আবেদন।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গলতে থাকে সম্পর্কের বরফ। পর্যটন ভিসা চালুর আশ্বাস দেয় ভারত। নতুন হাই-কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে এসেই উদ্যোগ নেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় দেশটি। 

এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ আহমেদ, ট্যুরিস্ট ভিসার যে বিষয়টা শুরু হলো, এটা সম্পর্ক স্বাভাকিক করারই চেষ্টা। দিল্লি জনগণকেন্দ্রিক যে সম্পর্ক তৈরি করতে চাচ্ছে, সেটার কাঠামো তৈরি হবে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন, সেখান থেকে বের হয়ে আসার সূচনা হতে পারে এটা।

প্রতিবেশী হিসেবে ২ দেশের ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বলেন, ২ দেশের সরকারকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভারতের ভেতর যেমন বাংলাদেশ নিয়ে একটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হয়; এটা পশ্চিমঙ্গের নির্বাচনে স্পষ্ট হলো। বাংলাদেশেও ভারতকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হয়। যারা সরকারের দায়িত্বে থাকেন, তারা যেন কথাবার্তায় আরও মার্জিত হোন। 

সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রতিবেশী বলতে ভারত ও মিয়ানমার, মিয়ানমারের সাথেও তো আমাদের সুসম্পর্ক নেই। সুতরাং আমাদের ভালোমতো চলতে হলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ভূকৌশলগত কারণে দুই দেশের সুসম্পর্ক জরুরি।