তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী 

এ বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। আজ রোববার সংসদে বাজেট আলোচনায় এ কথা জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন সরকার সর্বাত্বক সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ২ কোটি মানুষের জীবন–জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তিস্তা নদীর ওপর নির্ভর করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ চলছে। তবে এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ সাফল্য তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার ওপর নির্ভরশীল।’

এর আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘খুব দ্রুত সম্ভব্যতা জরিপ শেষ করা হবে’ বলেও জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় তাঁর সফরসঙ্গী পানিসম্পদ মন্ত্রী গণমাধ্যমকে এই কথা জানান।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তায় একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডিং ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছে, আমরা যৌথভাবে সেই সম্মতিতে একত্রিত হয়ে সেই স্ট্যাডিটা কমপ্লিট করব। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা স্টাডিটা কমপ্লিট করে বলে আশা করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য যেসব নদী রয়েছে সেগুলোর জন্য বাংলাদেশ চীনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। অনেকগুলা নদীর সঙ্গে তাদের যে সম্পৃক্ততা সেগুলো তো আমরা এডজাস্ট করবই।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘তার পাশাপাশি তিস্তার ব্যাপারে আমাদেরকে চীন যে সহযোগিতা দেবে এর ভিত্তিতে আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেব কবে নাগাদ হবে। খুব শিগগিরই তিস্তার যে পরিকল্পনা এই পরিকল্পনাটা আমরা জনগণের দ্বারগৌড়ায় পৌঁছে দেব। সেটার জন্য ইনশাআল্লাহ এই বাজেটেই যেন আমরা কাজ করতে পারি সেই দিকটাকে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।’

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তার ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার আলোচনা করেছেন। ইভেন চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চীনের সাইডে সেখানকার ওয়াটার রিসোর্স মিনিস্টার ছিলেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অন্যান্য মন্ত্রী এবং উপদেষ্টামণ্ডলী ছিলেন। সেখানে ডেলিগেটস যারা ছিলেন সবার মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তিস্তার জন্য আমাদের যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা-চাওয়া, তিস্তা অববাহিকায় যেখানে আমাদের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণে আমাদেরকে একটা বাস্তবের রূপ নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি ছিল বিধায় চীনের একটা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রয়োজন। সেখানে একটা ফ্যাসিলিটি স্টাডিং ব্যাপারে উনারা সম্মত হয়েছেন।’