বিভিন্ন স্থানে সাদা পতাকা টানানোর বিষয় সরকারের নজরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফে লেখা কালিমাসহ সাদা পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। কেননা এটা বিদেশে বাংলাদেশের জন্য ভালো বার্তা দেয় না।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছে এতে সরকারের রাজনৈতিক অংশ ও সরকারি কর্মকর্তা দুই অংশের দায় আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এই দুর্নীতি করেছে তা বলবো না। আবার তারা যে অন্য দুর্নীতি করেনি সেটাও বলবো না।

উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি ফৌজদারি অপরাধ। এটা তামাদি হয় না। অনেক বছর পরও এর তদন্ত করা যায়। দুদককে বলবো কোনো কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। সরকার সেখানে বাধা দেবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে তিনি বলেন, পলাতক শেখ হাসিনার কোনো খবর প্রকাশ করা যাবে না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। দেশের গণমাধ্যমের প্রতি সেই আহ্বান থাকলো। খুব দ্রুত তথ্য কমিশন গঠন করা হবে। আর গণমাধ্যম কমিশন নতুন করে আলোচনা করে গঠন করা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কর্মসূচি বা কার্যক্রম যতদিন নিষিদ্ধ আছে ততদিন রিফাইন্ড হোক বা যে কোনো নামে আওয়ামী লীগ তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

তিনি বলেন, ব্যাংক আইনের একটি ধারা নিয়ে সমালোচনা ছিল। সরকার সেটি পরিবর্তন করেছে বাজেট অধিবেশনে, এটাই গণতন্ত্র। 

উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর সফল ছিল। এনিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। এটা চলুক। সরকার তার স্বার্থ অনুযায়ী তার পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে, এই সফরগুলোর মাধ্যমে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, খাদ্যের মজুত বেড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কৃষকরা দাম পাবে। ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম চালু হচ্ছে। এটা পথের ভোগান্তি কমাবে।

বিরোধীদলীয় ৬৫ জন সংসদ সদস্যের প্রতিজনকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ৩০ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি ও ক্ষতি কমাতে ১৫ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বজ্রনিরোধক দণ্ড ও ছাউনি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের সরকার তাল গাছ লাগানোর প্রকল্প নিয়েছিল। কিন্তু একটা তালগাছ বড় হতে প্রায় ৩০ বছর লাগে। তাই সরকার বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন ও ছাউনি তৈরি করে দেবে।

উপদেষ্টা বলেন, ভারতের ১১৫ জন নাগরিক ও মিয়ানমারের ১৫ জনকে পুশইন করতে দেয়নি বিজিবি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের চাহিদার সাথে মিললে চায়না-মিয়ানমার-বাংলাদেশ সরাসরি যোগাযোগে সড়ক বা করিডর হতে পারে। এর সম্ভাবত্যা যাচাই করা হবে। এর আগেও  চায়না-মিয়ানমার-ভারত-বাংলাদেশ সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনা ছিল। সেটা হয়নি।

উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা চীনের প্রস্তাব ছিল। ভারত এর সাথে প্রথমে যুক্ত ছিল না। শেখ হাসিনা ২৪ সালের নির্বাচনের পর ভারতে গেলেন এরপর ভারত এর সাথে যুক্ত হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প নিয়ে এগুচ্ছে তিস্তা পারের মানুষের দুর্দশার কথা চিন্তা করে। চীনের সহায়তায় তিস্তা নদীশাসন ও পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে। এতে ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি মহাপরিকল্পনা চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় হবে কিনা। হলেও এ নিয়ে ভারতের টেনশন করার কোনো কারন নেই। বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে কাজ করবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা কোনো দেশের নিরাপত্তা সংকটের কারণ হবে কিনা সে বিষয়টি বাংলাদেশের মাথায় আছে।