জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের অন্যতম সমালোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ইন্টারনেট শাটডাউন এবং তা নিয়ে মিথ্যাচার। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রথমবারের মত সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরদিন ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে জারি করা হয় কারফিউ। উদ্দেশ্য ছিল, আন্দোলন স্তিমিত করা এবং সবাইকে অন্ধকারে রেখে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়া।
২০২৪ এর জুলাই। দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে বৈষম্যবিরোধীদের। ধীরে ধীরে কোটাবিরোধী বিক্ষোভ রূপ নিচ্ছে সরকার পতনের গণঅভ্যুত্থানে। ১৮ জুলাই হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় সারাদেশের ইন্টারনেট সেবা। ১৯ জুলাই দিবাগত রাত থেকে জারি করা হয় কারফিউ।
ইন্টারনেট বন্ধের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ তথ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে আসতে পারেনি। যা ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছাড়িয়ে যায়। সেইসঙ্গে চলতে থাকে ব্যাপক ধর-পাকড়।
নানা মহলের চাপে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ইন্টারনেট সেবা ফিরতে শুরু করে। তবে বন্ধ রাখা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ১০ দিন পর চালু হয় মোবাইল ইন্টারনেট। আর তখনই মানুষ জানতে শুরু করে কীভাবে পাখির মত মানুষ মারা হয়েছে আন্দোলন দমনের নামে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব স্তরের সব মানুষের মধ্যে।
এসময় বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবারও নিজেদের সংগঠিত করে আন্দোলন এগিয়ে নিতে থাকেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নতুন কর্মসূচি ঘোষণাসহ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছিল অনলাইনে।
ইন্টারনেট বন্ধের এই কয়েকদিনে ঘটা অসংখ্য হত্যা এবং হামলার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ। তরান্বিত হয় হাসিনা সরকারের পতন।