সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাটে যা পাওয়া গেল 

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে শত শত কোট ও টাই পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের অংশ হিসেবে মালামালের তালিকা তৈরির সময় এসব সামগ্রী নথিবদ্ধ করেছে দুদক।

আজ রোববার সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট দুটি জব্দ করে দুদক। এতে দুর্নীতির নানা আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

গত ডিসেম্বরে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে গুলশানের ফ্ল্যাট দুটিও জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। গুলশান-২ নম্বরের আলিশান একটি বাড়ির দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে আজ সকালে মালামাল জব্দ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁদের সহায়তা করেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় পুলিশ।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবারও এই তালিকা তৈরির কাজ চলবে; এরপর চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাট দুটিতে প্রথম দিন দুদক যেসব সামগ্রী পেয়েছে, তার মধ্যে তিন শতাধিক কোট ও ৫৩২টির বেশি টাই রয়েছে।

এ ছাড়া আটটি ঘড়ির বক্স (যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ি), তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, একাধিক বিছানা, সোফা এবং ১০০টির বেশি কামিজ নথিভুক্ত করেছে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দল।

দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান জানান, গত ডিসেম্বরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের এই ফ্ল্যাট দুটির খোঁজ পায় দুদক। ফ্ল্যাট দুটির সম্মিলিত আয়তন ৭ হাজার বর্গফুটের বেশি। ভেতরে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতি করে অর্জিত নানা মালামালের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের আগেই মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুদকের এই উপপরিচালক আরও জানান, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সম্পত্তির বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, পলাতক সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে বিশ্বের ৯টি দেশে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে। এরই মধ্যে ৩০টি মামলায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।