উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের এক বছর

মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় ভবনের ত্রুটি, পাইলটের ভুলও দায়ী

এক বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলের যে ভবনটিতে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে সেই ভবনটির কিছু নির্মাণক্রুটি ছিল। আর পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি ও তাঁর তদারকি কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ঘটে ভয়বহ এই দুর্ঘটনা। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে আসে। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ওই ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৮ শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জন, আহত হন অনেকে।

গত বছরের আজকের এই দিনে বিমানবিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। যে শ্রেণিকক্ষ মুখর থাকতো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোলাহলে। এখন সেখানে শুধুই দুর্বিষহ স্মৃতি। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই পড়ে আছে বই-খাতা, টিফিনবক্স সহ নানা জিনিস। গত ২০ জানুয়ারি বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র পায় বিমান দুর্ঘটনায় আহত সবশেষ শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম। উত্তরায় মাইস্টোন স্কুলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পরেও সেই স্মৃতি ভুলতে পারেনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। মাথার ওপর দিয়ে বিমান গেলে প্রতিটি বিমানের শব্দে আঁতকে উঠে তারা। 

তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর খাতার পাতায় দেখা যায় শিশুদের অধিকার নিয়ে লেখা। এতে ছিল নিরাপত্তা লাভের অধিকারও। সেই নিরাপত্তাই দিতে ব্যর্থ হয় রাষ্ট্র। 

দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে- পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। 

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বিধ্বস্ত ভবনটি স্কুলের জন্য উপযোগী ছিল না। রাজউকের নির্দেশনা থাকলেও ভাঙা হয়নি। বিকল্প সিঁড়ি না থাকায়, জরুরি অবস্থায় বের হতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনটি ভেঙে ফেলার চিন্তায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি রক্ষার পরিকল্পনাও আছে।  
 
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের উপদেষ্টা কর্নেল নুরুন নবী (অব) বলেন, ‘রাজউক আমাদেরকে এইটা ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা এইটা ভাঙা শুরু করেছি। এইখানে আমরা স্মৃতি রক্ষার্থে কিছু করা যায় কিনা সরকারের সাথে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।’