দল থেকে বহিষ্কারের পর এবার সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। বুধবার রাজধানীর পল্লবী থানায় এ মামলাটি করা হয়।
এরই মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। গ্রেপ্তার আসামি আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার একটি বাসায় পরিবারসহ থাকতেন এবং তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাগ্নির কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই ওই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান।
এজাহারে ওবায়দুর উল্লেখ করেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে ডেকে নেন এবং অন্য আসামিরা মিলে তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি এজাহারে আরও জানান, হামলার পর থেকে আসামিরা তাঁকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে তিনি দাবি করেন, ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বুধবার গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।