বোমা আতঙ্ক ও আওয়ামী লীগের তৎপরতায় সতর্ক পুলিশ

সম্প্রতি মেট্রোরেল স্টেশন ও সাভারে বোমা উদ্ধার এবং ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বাড়ায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব জেলার এসপিসহ ইউনিট প্রধানদের সতর্কতামূলক বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনো স্থানে বোমার তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং পুলিশ সদস্যদের চলাচলে সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি তাজা বোমা। 

গত ২৫ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ছাতায় বসানো একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি বোমা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মতিঝিলে পাওয়া আইইডির সঙ্গে কেরানীগঞ্জসহ আগের কয়েকটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক উপকরণের মিল পাওয়া গেছে।

এদিকে, গত ১ আগস্ট ফার্মগেট ও মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি পরিত্যক্ত খালি ব্যাগ ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের মুখপাত্র বলছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নয় বরং, নিয়মিত নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই সতর্কতা জারি হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সবসময়ই নিয়মিত কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটাও ওরকমই নির্দেশনার অংশ। নির্দেশনা দেওয়া হয়,যাতে ফোর্স কাজে তৎপর থাকে। 

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বোমা নিয়ে শঙ্কা বা আতঙ্কের কিছু নেই। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো ঘটনাকেই হালকা করে দেখা যাবে না। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, ছোট বা বড় যেটাই হোক; আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়; এমন কিছু  সহজ ও স্বাভাবিকভাবে নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত হবে না। বাংলাদেশে জঙ্গি নেই;এমন কোনো আত্মতৃপ্তির অবকাশও নেই।

এদিকে, রোববার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতা জারি করে সব জেলার এসপিসহ ইউনিট প্রধানদের বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে। বোমার তথ্য গুরত্বের সঙ্গে দেখা, পুলিশ সদস্যকে সাবধানে চলাফেরাসহ একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও চিহ্নিত অপরাধীদের আপতৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ ছক কষা হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে বসে নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের নির্দেশনা পেয়েছে সাইবার ইউনিট।