সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাইবিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্য প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরই তাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের অপপ্রচার বাড়ানো হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সক্রিয়কর্মী পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানায়, কোনো পুলিশ সদস্য অতীতে গুম, হত্যা, দমন-পীড়ন, নির্যাতন বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন অজুহাতে পেশাদার, সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্য হলো পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করা, সদ্য পদায়নপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করা, পুলিশ বাহিনীকে মনোবলহীন করা, জনমনে বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।
এ অবস্থায় মানহানিকর প্রচারণা, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেতন নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।



