র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন- এসআরবি নামে আসছে নতুন বাহিনী। এ সংক্রান্ত খসড়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতীক, পতাকা পোশাকসহ কর্মবিধি। নতুন আইন কার্যকর হলে ভিন্ন রূপে দেখা যাবে এ বাহিনীকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নাম পরিবর্তনেই মানুষের আস্থা ফিরবে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পাশাপাশি প্রয়োজন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করা।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবে ২০০৪ সালে গঠিত হয় র্যাব।
পুলিশের পাশাপাশি সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে হয় এই ‘এলিট ফোর্স’। তবে শতশত বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে র্যাব।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার, টেকনাফে ইকরাম হত্যা, গুমসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বাহিনীটি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনও একই সুপারিশ করে।
অবশেষে র্যাব বিলুপ্ত করে- স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন- এসআরবি নাম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে আস্থা ফেরাতে নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজন নতুন আইনের প্রয়োগ- বলছেন র্যাবের সাবেক ডিজি।
র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, র্যাব যখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য গুম,খুন, ক্রসফায়ার, আয়নাঘরে আটক–এসব বিষয়ের সঙ্গে তারা যখন জড়িত হলো; তখনই আস্থার সংকট তৈরি হলো। রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হলে ও ঠিকঠাক কাজ করলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, র্যাবের নাম পরিবর্তনেই মানুষের আস্থা ফিরবে না। জবাবদিহিতা ও স্থায়ী সদস্য নিয়োগের পরামর্শ তাদের।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, যাদের এনে বাহিনী করা হয়েছিল,এর মধ্যে যাদের দরকার রাখতে হবে, যাদের দরকার না তাদের বাদ দিতে হবে। শক্ত নজরদারি থাকলে আগে আইনের যে অপপ্রয়োগ হয়েছে, তা কমে আসবে।
এসআরবির খসড়া আইনে গুরুত্ব পাচ্ছে পোশাক, লোগো, পতাকাসহ নানা বিষয়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এ বাহিনী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবে। এছাড়াও উল্লেখ থাকবে তাদের কাজের পরিধি।