হামলার আশঙ্কা, পুলিশ চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠি 

দীর্ঘ সময় লোডশেডিং পরিপ্রেক্ষিতে হামলার আশঙ্কায় সারা দেশে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। আজ বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে এসব এলাকায় ‘জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে’। কিছু এলাকায় বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয় হামলার শিকার হচ্ছে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ বা প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের যে বরাদ্দ তারা পায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।

গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা এমনকি ১২ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করছে। এতে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে রয়েছেন।’

এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আইজিপিকে।

চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, বিদ্যুৎ সচিবের একান্ত সচিব এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ও জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসিদের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পল্লী বিদুৎ সমিতি বলছে, এই চিঠির সঙ্গে তাদের কোনে সম্পর্ক নেই। এমনকি ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন’ নামের এই সংগঠনের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।