গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ের প্রায় এক বছর হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি। গতবছরের সেপ্টেম্বের সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ৪৯ আসামির সবাইকে খালাস দেন।
এই মামলার আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক কারণেই তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের আসামি করে সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তাদের নির্দোষ ঘোষণা করেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং আহত হয় তিন শতাধিক। বিচারিক আদালত লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন । অন্যান্যদের দেন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা।
এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগও এই রায় বহাল রাখে।
জোরপূর্বক সাক্ষীদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া, যে সম্পুরক চার্যশিটের ওপর ভিত্তি করে বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিল সেটিকে অবৈধ ঘোষণা এবং হামালার তথ্য প্রমানের যথেষ্ট অভাব থাকায় প্রথম রায়কে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দেন উচ্চ আদালত।
আইনজীবীরা জানান, বিএনপি নেতারা কীভাবে এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবরের সম্পৃক্ততার কোনো আলামত মেলেনি। চিরকুট, টেপ রেকর্ড বা কেউ এসে বলেনি যে তাকে এটা করতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী বলেন, স্পষ্ট বোঝা যায় দ্বিতীয় তদন্ত, দ্বিতীয় চার্জশিটে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম দিয়ে বিচার শুরুটা পুরোটাই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিচার কীভাবে পাবে, এটা তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র অনেক আইনজীবীরা মনে করেন, হামলায় অনেকে হাতাহত হলেও প্রকৃত আসামিদের আড়াল করে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় এখন ভুক্তভোগীদের পরিবারও বিচারবঞ্চিত।
হাইকোর্টের রায়ে পুনঃতদন্তের নির্দেশনা থাকলেও আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা ছিল না।