সরকারি চাকরিজীবীদের কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ল

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নবম পে–স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের নতুন এক নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম পে–স্কেল ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ সংশোধনের ধারাবাহিকতায় নতুন বেতনস্কেল-২০২৬-এ সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিম্ন ও মাঝারি স্তরের কর্মচারীদের (১২তম থেকে ২০তম গ্রেড) আর্থিক সুরক্ষায় তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তা পর্যায়: ১ম থেকে ১০ম গ্রেড
কর্মকর্তা পর্যায়ের বেতনে অভিন্ন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিসের প্রারম্ভিক পদ বা বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৯ম গ্রেডের বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

প্রথম শ্রেণির শীর্ষ পদ অর্থাৎ ১ম গ্রেডে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২য় গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা, ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা এবং ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৮৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

একইভাবে ৬ষ্ঠ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা, ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার টাকা থেকে ৪৬ হাজার টাকা এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মাঝারি ও সহকারী কর্মচারী পর্যায়: ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড
১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এতে বেতন ১০০ শতাংশ বেড়েছে। তবে ১২তম গ্রেড থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার শতভাগ ছাড়িয়ে গেছে।

১২তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা ১১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এ গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন হবে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা।

১৩তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে ১১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ১৫তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

নিম্নতম ও সহায়ক কর্মচারী পর্যায়: ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেড
বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নিম্ন বেতনভুক্ত সহায়ক কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতনে সবচেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

১৬তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে ১৩৮ শতাংশ বাড়িয়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

১৮তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা ১৩৯ শতাংশ বাড়িয়ে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

১৯তম ও ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ১৯তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৪১ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কাঠামোগত বৈষম্য কমাতে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার শতভাগের ওপরে রাখা হয়েছে। এসব গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।