ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তাঁকে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ে চরম অসন্তোষ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মাঝেমধ্যে ভাবি এদেরকে পড়িয়ে কি লাভ।
পোস্টে তিনি জানান, বাসা পরিবর্তনের কাজ শেষ করে ক্লান্ত শরীরে রাতে ফেসবুকে ঢুকে তিনি জানতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ক্লাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এই অনলাইন হয়রানির তালিকায় তাঁর নামও জড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মোনামি লেখেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র, তাদের মধ্যে একজন আবার শিবির সমর্থক অথবা শিবির করে, এরা ক্লাসের মেয়েদের নিয়ে অনেক আজে বাজে কথা লিখেছে। সাথে এই হ্যারাসমেন্টের লিস্টে আমিও আছি। আমি ফেসবুকে ঢুকে এই সম্পর্কে অবগত হলাম।'
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'একজন ছাত্র থেকে তার/তাদের ডিটেইলস নিলাম, কম্পলেইন (কমপ্লেইন) করার জন্য। সিদ্ধান্ত নিলাম, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব, আমি করব। কিন্তু সকালটা হতে দিতে হবে তোহ!!!'
কিন্তু আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই অনবরত ট্যাগ ও টিপ্পনী কেটে তাঁকে অনলাইনে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা।
এসময় শিক্ষকতা পেশা ও কিছু শিক্ষার্থীর মানসিকতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এদেরকে নাকি আমি আবার পড়াই!!!'
এরপর হতাশা ব্যক্ত করে মোনামি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে সত্যি মনে হয় এই চাকরি আর উপার্জনের খুব বেশি প্রয়োজন না থাকলে কেন যে এমন মানুষদের পড়াব!? আমার কত ইচ্ছে করে যদি অন্য কোনো পেশায় চলে যেতে পারতাম। হয়তো কোনো একদিন পারবোও।’
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।