তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি নির্মূলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি বিশিষ্টজনদের। রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক গোলটেবিল আলোচনায় এই দাবি জানানো হয়। এসময়, বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানান আলোচকেরা। বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঢেলে সাজাতে হবে আমলাতন্ত্র। কেননা এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক।
বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনায় শনিবার গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বিশিষ্টজনেরা।
সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা প্রান্তিক পর্যায়ে দাপট দেখাচ্ছেন অভিযোগ করে তা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান আলোচকেরা। বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমও হারিয়ে গেছে। এসময়, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে– সেটা নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা করছে জানি, কিন্তু সরকারি দলের তৃণমূল পর্যায়ের যারা কর্মী তারা যখন সরাসরি চাঁদাবাজিতে যুক্ত হয়, এবং তারা যখন তৃণমূল ও স্থানীয় পর্যায়ে দলের পরিচিতি দিয়ে দাপট দেখায়, তখন এটা একটা বড় সমস্যা।’
আলোচকেরা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর কথা ভাবি, আমরা যদি অতীত স্মরণ করি সেইসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পেশাজীবী সংগঠন আরেকটা ছিল, স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা; সেখানে একজন সহকারী অধ্যাপক পাওয়া যায়নি দাঁড়ানোর জন্য।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এছাড়া সব জায়গায় যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ছিল তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘আজকে বিদ্যুতের মতো–জ্বালানির মতো এরকম দরকারি পণ্য নিয়ে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটা আপনারা নিশ্চয়ই বোঝেন। তবে এটা খুবই স্বাভাবিক যে, জনগণ একদিকে যেমন এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণে ভোগান্তির মধ্যে আছেন। আমাদের এই ভোগান্তির মধ্যদিয়ে বেশ কিছুদিন যেতে হবে।’
আলোচনায় সুশাসন, সংসদীয় রাজনীতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।



