চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি, তবু সার পাচ্ছেন না কৃষক

সরকার বলছে, সারের সংকট নেই। প্রচুর আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। অথচ কৃষকের দাবি, চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না, দামও চড়া। এ পরিস্থিতিতে সন্দেহ করা হচ্ছে ডিলারদের। চাষিদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে নজরদারির অভাব দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ক্ষুব্ধ হয়ে এক কৃষক বলেন, ‘বলা হচ্ছে প্রচুর সার আছে, আমদানিতে কোনো সমস্যা নাই, আর আমরা দেখতেছি সার নাই। আমাদের বলা হচ্ছে–এখান যাও ওখানে যাও। এসব কথাবার্তা বললে কি কাজ হবে!’

আরেক কৃষক বলেন, ‘ওনারা সবসময় বলে যে পর্যাপ্ত সার আছে, উনারা বলে জনগণকে আমরা দেই। সবকিছুতে ওরা দেয় কিন্তু দেওয়ার বেলায় আমরা পাই না।’

সার নিয়ে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই। সামনে আসছে আমন ধান ও রোপা মৌসুমের সময়। স্বাভাবিকভাবেই সারের চাহিদা বেশি। কিন্তু চাহিদামতো মিলছে না। ডিলারদের কারসাজিকে দায়ী করছেন চাষীরা।

এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘যেকোনো ডিলাররা একটা সিন্ডিকেট করেছে। এই সিন্ডিকেট করে আমাদের কৃষকদের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিছে। এইভাবে আমাদের কাছ থেকে সারের দামটা বেশি করে নেয়।’

এদিকে এক ডিলার বলেন, ‘বাড়তি দামে আমরা বিক্রি করি না। কৃষকদের যদি ওইরকম ইয়ে থাকে তাইলে হয়তো পরিমাণের চাইতে কম দেই, সারটাই কম দেই। যেটা বেশি চাচ্ছে সেটা একটু কম নিয়ে যেতে বলি। তাছাড়া আমরা বাড়তি দামে বিক্রি করি না।’   

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সারের ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা, বিতরণ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। 

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘আগামী রবি মৌসুমে যে চ্যালেঞ্জ যদি আমরা মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে তো বিপদ।’

তবে সংকট মানছেন না কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মহাপরিচালক জানান, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সারের চাহিদা সাড়ে ৪০ লাখ টন, সরবরাহ করা হবে ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টন।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘যে এলাকায় যে পরিমাণ সার দরকার এবং তার চেয়ে কোনো কোনো জায়গায় বেশিই আছে। কিন্তু ইনসিডেন্ট যেগুলো হচ্ছে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায়, এগুলো আসলে কৃত্রিম সংকট তৈরির পায়তারা। আগে যে পরিমাণ সার ছিল তার চেয়ে বেশি পরিমাণ সার আছে। কাজেই সংকট থাকার কোনো কারণ নেই।’ 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিইপি ও অ্যামোনিয়া সারের চাহিদা ৫৮ লাখ ২০ হাজার টন।