জাতিসংঘ অধিবেশনে কূটনৈতিক ব্যস্ততা শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শেষ দিনেও তিনি বৈঠক করেছেন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে। এছাড়া, ওয়াল স্ট্রিটে প্রাতরাশ বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
কূটনীতির নানা সমীকরণ আর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা তুলে ধরার পর নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনেও ব্যস্ত সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনের শুরুতেই ওয়াল স্ট্রিটে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেন তিনি। আলোচনা হয় বাংলাদেশে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত জানিয়ে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে তারা বলেছেন– আমরা বাংলাদেশে আসব, বর্তমান সরকারের সাথে পার্টনার হিসেবে কাজ করতে চাই। এবং আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তারা মন খুলে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।’
পরে, কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ শাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। এসময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও।
ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট জায়াদ রায়াদ আল হুসেইনের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করেন তারেক রহমান। বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, ও সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘অত্যন্ত স্বনামধন্য বিনিয়োগকারীদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলাপ করেছেন, কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়। আমেরিকার প্রাইভেট সেক্টর এ বৈঠকের আয়োজন করেছিল। তারপর প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় যে কর্মসূচি ছিল– উনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সাথে মিটিং করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট বলতে শান্তি রক্ষার জন্য, মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য উনারা কাজ করেন। বিশ্বব্যাপী কীভাবে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশটিকে উনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) পেয়েছেন। সেটিকে কীভাবে আবার পুনর্গঠন করে একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া যায় সে কাজটি উনি করে চলেছেন।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কূটনীতির নতুন ইতিহাস তৈরি করবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে দ্বীপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা যায়। কীভাবে রপ্তানি বাড়ানো যায়। কীভাবে জনশক্তি রপ্তানি আরও বাড়ানো যায়। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে উনারাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ক্রাউন প্রিন্স (কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স) উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ও জিয়া পরিবারের সাথে উনাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক।’
যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।