গ্যাস লিকেজে অগ্নিকাণ্ড–বিস্ফোরণ বাড়ছে, যে কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস এখন বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। পাইপলাইনে লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে ঘটছে বিস্ফোরণ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা যাচ্ছে পরিবারের একাধিক সদস্য। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ২০২৪ সালে গ্যাস লিকেজে আগুনের ঘটনা ছিল ৫৩৯টি। ২০২৫ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২০টিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সরকারি তদারকির অভাবেই বারবার ঘটছে গ্যাস দুর্ঘটনা। 

রান্নার কাজে প্রতিদিন যে গ্যাস ব্যবহার হয়, অসতর্কতায় সেটিই এখন মৃত্যুর কারণ। কখনো লিকেজ, কখনো নিম্নমানের পাইপ বা রেগুলেটর, আবার কখনো সিলিন্ডারের ত্রুটিতে ঘটছে বিস্ফোরণ। 

চলতি বছরের বেশ কিছু ঘটনার মধ্যে আলোচিত ছিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিস্ফোরণ। এ বাড়ির নতুন ভাড়াটিয়া আসাদ মিয়া। গ্যাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর তিনিসহ বাকি ভাড়াটিয়ারাও আতংকে। 

আসাদ মিয়া বলেন, ‘ভয়ে–আতঙ্কে বাসা ছেড়ে দিয়েছি। ১ তারিখে আমরা চলে যাব। কারণ, এখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, মনের ভেতরে সবারই ভয় থাকে।’

এলাকার এক যুবক বলেন, ‘আমরাও আতঙ্কিত। কারণ, যেরকম শব্দ হয়ছিল, আমার জীবনে এরকম শব্দ কখনো শুনিনি।’

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে গ্যাস লিকেজে অগ্নিকাণ্ড হয় ৯২০টি। সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ১২১টি। আগের বছরের তুলনায় অগ্নিকাণ্ড বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ। বিস্ফোরণ বেড়েছে ৪ গুণের বেশি। 

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মেদ খান বলেন, ‘সিলিন্ডারের ভেতরে কিট যেগুলো আছে, এগুলো আসলে মানসম্মন্ন নয়। সঠিকভাবে পরিবহন ও নড়াচড়া  না করলে বা মানসম্পন্ন কিট না থাকলে লিকেজ হতে পারে। এগুলোই দুর্ঘটনার বড় কারণ হতে পারে। 

বুয়েটের এই অধ্যাপক জানান, বদ্ধ ঘরে গ্যাস ৫ শতাংশের বেশি জমলেই ঘটতে পারে বিস্ফোরণ। গ্যাসের গন্ধ না থাকার প্রমাণও মিলেছে একাধিক গবেষণায়। 

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইসির আরাফাত খান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে; ২৫টা জায়গা থেকে নমুনা নিয়েছিলাম। আমরা এনালাইসিস করে কোথাও আমরা গন্ধের উপস্থিতি পাইনি। যারা ঘটনাস্থলে থাকেন তারা বুঝতে পারেন না যে, এখানে গ্যাস লিকেজ হয়েছে। ফলে বদ্ধ জায়গায় গ্যাস জমা হয়ে ৫ শতাংশের ওপরে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ হচ্ছে।’ 

বার্ন ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, সেখানে চিকিৎসা নেওয়া ৩০ শতাংশ রোগী গ্যাসের আগুনে দগ্ধ। ভর্তির কয়েকদিনের মাথায় মারা যায় বেশিরভাগ। 

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘সারাদিন প্রচুর রোগী পেয়ে থাকি। সাধারণত ৩০ শতাংশ রোগীই থাকে গ্যাস থেকে দগ্ধ। এমনও ঘটে একই পরিবারের ৫ জন–৭ জন দগ্ধ হয়ে আসে।’  

বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট বাস্তবায়নে গাফিলতিতে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।