গত ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। আর চলতি বছরের ৯ মাসে প্রতিদিন গড়ে দুর্ঘটনা ১৭টি, নিহত ১৬ জন। বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকাই দুর্ঘটনার মূল কারণ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিমন্ত্রী জানান, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে জিপিএস যুক্ত করা হচ্ছে। আর নিরাপদ সড়ক দিবসে জনমনে প্রশ্ন, কবে থামবে এই মৃত্যুর মিছিল?
জামালপুর সদরের ঘোড়াকান্দা গ্রামের কবির হোসেন। গত ২ অক্টোবর ময়মসিংহে বাস চাপায় নিহত হন তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ও স্ত্রী। সেই দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশার মোট সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। মা-ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত পুরো পরিবার। পায়নি আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
গত ৬ মে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় কুরী। ছেলে হারানোর শোক নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবার।
দুবছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হন গোল্ডেন লাইন বাসের চালক রাকিব হাসান। চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
সারা দেশ প্রতিদিন দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন গড়ে ১৬ জন, আহত ৪০ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৯ মাসে নিহত হয়েছেন ৪ হজার ২ শো ১১ জন। সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১ হাজার ৪৯২ জন।
দুর্ঘটনায় এই বিপুল প্রাণহানি রোধে গোটা গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপের চাপ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক-মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, বলছেন তারা।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে ইতোমধ্যে করণীয় নির্ধারণে ১১১টি সুপারিশ দেওয়া রয়েছে। গত চার–পাঁচ বছরে কোনো মিটিং হয়নি। দুর্ঘটনা ঘটার পর দেখা যায়, সেটা আনফিট ছিল। এটা দেখার জন্য কি কোনো কর্তৃপক্ষ নেই?
দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন গতির যানবাহন যাতে একই সড়কে চলতে না পারে সে ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। আর গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে সংযুক্ত হচ্ছে জিপিএস। এছাড়া লক্কর ঝক্কর বাস বাতিল এবং আটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা হচ্ছে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, পুরোনো যে পরিবহন আছে, সেগুলো নিয়ে নীতিমালা তৈরি হচ্ছে; আমরা চাচ্ছি এগুলোকে ডাম্পিং না করে অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে।
গবেষকরা বলছেন, সড়কে দুর্ঘটনার প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে এক-একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, সন্তান হারানোর বেদনা আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম। তাই নিরাপদ সড়কের জন্য চালক, যাত্রী ও পথচারীর সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।


