প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব ট্রলি হস্তান্তর করেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠান ও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের লাগেজ ও মালামাল সহজে পরিবহনের সুবিধার্থে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করা হয়। ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ২৫টি এবং সিলেট বিমানবন্দরে ২৫টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, জাপানে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ’ পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু হতে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তিটির মূল সুবিধাগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে, যার ফলে আমাদের কর্মীরা উচ্চ বেতন ও জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তি অনুযায়ী কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে, নারী বিদেশি কর্মীদের গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো চাকরিচ্যুত বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এমনকি গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতির কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
পরবর্তীতে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বোমা হামলায় মারা যাওয়া দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লায়। আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই তাদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এছাড়া, সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে সঠিক তথ্য চেয়ে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির উত্তর পাওয়ামাত্রই তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
ট্রলি হস্তান্তর ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদসহ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার।