ডিভাইস বিশ্লেষণ 

অপরাধ তদন্তে প্রতি বিভাগে ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের চিন্তা

১৫ বছরে প্রায় ৪০০ গুণ বেড়েছে অপরাধ তদন্তে ডিভাইস বিশ্লেষণের চাহিদা। ২০১২ সালে যেখানে ৭ মামলায় ১৮টি আলামত বিশ্লেষণ করা হতো, সেখানে এবছর জুন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মামলায় ১১ হাজারের মতো আলামত জমা পরে। বর্তমানে তিনটি বিভাগে থাকলেও প্রতিটি বিভাগে ল্যাব স্থাপনের কথা ভাবছে সিআইডি। তবে, ফরেনসিকের জন্য আলাদা ইন্সটিটিউশনের তাগিদ বিশ্লেষকদের।  

বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। 

ফলে, হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রায় সব ফৌজদারি মামলায় ডিজিটাল ফরেনসিকের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে বহুগুণ। এ বাস্তবতায় পুলিশ ও তদন্ত সংস্থাগুলোর জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তবে সেই তুলনায় ডিজিটাল ফরেনসিকের সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে, বাড়ছে আলামতের জট। 

সিআইডির তথ্য বলছে, ২০১২ সালে ৭টি মামলায় ১৮টি আলামতের সবগুলোই নিষ্পত্তি করা হয়। তবে, ২০২৩ সালে ৩৫৬১ মামলার আলামতের ৯১ শতাংশ, ২০২৪ সালে ২৭৫৯ মামলার ৮৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৩২৯০ মামলার ৭৫ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়। আর এবছর জুন পর্যন্ত ২৪০০ মামলার মাত্র ৫১ শতাংশ আলামত নিষ্পত্তি হয়েছে। 

ক্রমাগত নিম্নমূখী নিষ্পত্তির কারণ হিসেবে সিআইডি বলছে অতিরিক্ত আলামতের চাপের কথা। 

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার  ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘এই অপরাধের সাথে সাথে আমরাও কিন্তু আমাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আগে শুধু ঢাকায় একটি ফরেনসিক ল্যাব ছিল। সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ল্যাব বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশের দিক থেকেও প্রস্তুতি রয়েছে’ 

তবে যেকোনো ফরেনসিক তদন্তের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘যে সমস্ত অপরাধের ফরেনসিক টেস্ট করা দরকার তারা শুধু এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে করে রিপোর্ট দেবে। মামলার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে যেন শেষ হয়। এরকম একটি ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয়তা সরকার ভাবতে পারে।’