ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ব্যবহার করেননি বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনামের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বক্তব্যটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতেই এ স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন অপরাধী ও সংঘবদ্ধ হামলাকারীর প্রতিরোধ বা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়ে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-তে বিধান রয়েছে বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেননি।
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিষয়ে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে তিনি ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


