হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধার অভিযোগ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরণী ও চানন্দী ইউনিয়নে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামী ১৫ জুন প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থীদেরকে বাধা প্রদান এবং হামলা চালিয়ে মনোনয়ন ফরম ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে দুই ইাউনিয়নে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় বাধার শিকার চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন। এ সময় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নানা রকম শ্লোগান দেন তারা।

এর আগে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হরণী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুশফিকুর রহমান এবং চানন্দী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম শামীম।

তারা অভিযোগ করেন, গত ৮ মে থেকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দেয়া শুরুর পর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর লোকজন উপজেলার প্রবেশমুখে পাহাড়া বসিয়ে নিজেদের অনুসারী ছাড়া অন্য কাউকে ফরম সংগ্রহের জন্য যেতে দিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চানন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম শামীম বলেন, গত ২৫ এপ্রিল হাতিয়ার হরণী ও চানন্দী ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৮ মে থেকে প্রার্থীগণ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা থাকলেও আমরা প্রার্থীগণ সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে পারিনি।

হাতিয়া উপজেলা থেকে এ দুটি ইউনিয়ন আলাদা। মেঘনা নদীর উত্তরে হরনী ও চানন্দী ইউনিয়ন এবং নদীর দক্ষিণে উপজেলার বাকি অংশ হওয়ায় সন্ত্রাসীরা নদীপথে ও নির্বাচন অফিসের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহে বাধা দিচ্ছে। সন্ত্রাসীরা ব্যাংকের পে অর্ডার, চালান ফরম, মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় ও মারধর করে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা বলছে, সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীর অনুসারী ছাড়া কাউকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে দেয়া হবে না। দুটি ইউনিয়নের সাধারণ চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ সময় হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুশফিকুর রহমান জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অনেক মেম্বার প্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়ার পর কমিশন সচিব জেলা নির্বাচন অফিসারকে জেলা সদর থেকে আমাদেরকে মনোনয়ন ফরম দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। টানা তিনদিন সরকারি ছুটির পর মাত্র একদিন ১৭ মে হাতে সময় আছে। অথচ এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদেরকে এখনো কিছুই জানানো হয়নি।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বহিরাগত সন্ত্রাসীরা যেন নির্বাচনী সীমানায় ঢুকতে না পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

এ সময় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকালে হামলার শিকার কয়েকজন মেম্বার প্রার্থী ঘটনার বর্ণনা দেন। মনোনয়ন ফরম ছিনিয়ে নেয়ার এবং প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, আমিরুল ইসলাম শামীম ও মুশফিকুর রহমানের এলাকায় কোন জনপ্রিয়তা নেই। তাই তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ভোটে সবাই দেখবে তাদের জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে।

জেলা নির্বাজন অফিসার মো: মেছবাহ উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগের পর হাতিয়ার পাশাপাশি জেলা সদর থেকে মনোনয়ন ফরম দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। শনিবার থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রার্থীরা দুই জায়গা থেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন এবং জমা দিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, হাতিয়ার হরণী ও চানন্দী নামে এ দুটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আবার জেগে ওঠে। ২০০৫ সালে সরকার দুই ইউনিয়নের নাম নতুন করে গেজেট আকারে প্রকাশের পর প্রশাসক দিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

/এম.এস/