সওজের দুর্নীতি: এক চিঠিতে ১০০ কর্মচারী হন প্রকৌশলী

নিয়োগ বিধি অমান্য করে এক চিঠিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে ১০০ জন সার্ভেয়ার-ড্রাফটসম্যানকে পদোন্নতি দিয়ে প্রকৌশলী বানিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনকে বসানো হয়েছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বেও।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-আইডিইবি বলছে, এতে সরকারের উন্নয়ন কাজে জটিলতা বাড়বে। মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি সুরাহার নির্দেশ দেওয়া হবে।

চলতি বছর ২৪ জানুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এক অফিস আদেশে ৫৭ জন সার্ভেয়ার, ৩১ জন ড্রাফটসম্যান ও ১২ জন ওয়ার্ক-সুপারভাইজারসহ ১০০ জনকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেন।

এর ঠিক ১৪ দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি আরেক অফিস আদেশে সার্ভেয়ার, ড্রাফটসম্যান ও ওয়ার্ক-সুপারভাইজার থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ৫০ জনকে সড়ক ও জনপথের সারাদেশে চলমান গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন দায়িত্বে বসানোর আদেশ দেন প্রধান প্রকৌশলী। এতে ৩০ জন সার্ভেয়ার, ১৬ জন ড্রাফটসম্যান ও ৪ জন ওয়ার্ক-সুপারভাইজার দায়িত্ব পায়।

সরকারের গেজেট অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালনের পর নিম্ন পদ থেকে ১৫ ভাগ পদোন্নতি পেতে পারে। সে অনুযায়ী মোট ৬৩৫টি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের বিপরীতে পদোন্নতি পেতে পারে ৯৫ জন। ইতোমধ্যে ৪৪ জন দায়িত্ব পালন করছে।

নতুন করে ৫১ জনের বেশি পদোন্নতির সুযোগ না থাকলেও তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৪৯ জনকে বেশি পদোন্নতি পেয়েছে। যা সরকারি নিয়োগ বিধি বহির্ভূত আদেশ। প্র নিয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ বলেন, নন ট্রেকনিক্যালদের দিয়ে মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের এত বড় দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে জাতি। কাজের গুনগত মান এতে বাঁধা গ্রস্থের পাশাপাশি কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে জানান আইডিইবি সভাপতি।

নিয়োগ বিধি বহির্ভূত পদোন্নতির বিষয়টি স্বীকার করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। তিনি জানান, ব্যত্যয় থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান সচিব।