আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের পথে ক্ষমতা বদলের চিন্তা করে না: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যতীত ও জনগণের রায় ছাড়া কখনো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়নি। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ক্ষমতা বদলের চিন্তা করে না। নির্বাচনে আমরা সব সময় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে অনুসরণ করে। জনগণের ভোট ও জনগণের অধিকারের জন্য আমরাই সংগ্রাম করেছি।'

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'নির্বাচন কমিশন তার অর্পিত দায়িত্ব ক্ষমতাবলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আমরা গতকালকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছি, ধন্যবাদ জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধানের রীতি-নীতি বিধি-বিধান পালনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সহযোগিতা করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

জিয়া-এরশাদ-খালেদা সবাই স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসন করেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'হা/না ভোট, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, দলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক কেএম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করতে সংবিধান সংশোধন, প্রায় দেড় কোটি ভুয়া ভোটার সৃষ্টি সহ বিএনপির নানা নির্বাচনী অপকর্ম জাতি দেখেছে। আজকের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। এ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।'

সংলাপের সময় এখন আর অবশিষ্ট নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানালে জবাবে তিনি অশ্রাব্য গালাগালি করে বিশ্রী আচরণ করেছিলেন। কোকোর মৃত্যুতে সান্ত্বনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী গেলে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল। ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড আপনারা(বিএনপি)। সংলাপের কথা বলে দায় চাপাবেন আমাদের ওপর?' 

সংলাপের বিষয়ে আরও বলেন, 'ডোনান্ড লুর চিঠি নিয়ে আলাপ করেছি। জবাবও দেয়া হবে। আমাদের নির্বাচন নিয়ে এতো কথা, ফিলিস্তিনের কি অবস্থা? সেটা নিয়ে আমেরিকার ইউরোপের অবস্থান কি? জানতে চান ওবায়দুল কাদের।'

আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ দ্বারা বিএনপির কোন সমাবেশ কখনও বাধাগ্রস্ত হয়নি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আন্দোলনের রণকৌশল জানতে হয়। এসব বিষয়ে বিএনপির নেতাদের অভিজ্ঞতা নেই। সভা, মানুষ দেখে নেতাদের মাথা গরম হয়ে যায়। আগুন সন্ত্রাসই তাদের মূল লক্ষ্য, কারণ তারা জানে সভা-সমাবেশ করে সরকার পরিবর্তন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। কর্মসূচি দিতে এখন আছেন এক আবাসিক প্রতিনিধি। বিএনপি যদি এখনও মত পরিবর্তন করে নির্বাচনে আসে স্বাগত জানানো হবে।'

এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

এসময় তিনি জানান, 'আগামীকাল বিকেল তিনটায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন এই কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মনোনয়ন ফরম বিতরণের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর উল্লাহ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

এর আগে বুধবার (১৬ নভেম্বর) আগামী ৭ জানুয়ারি রোববার ভোটগ্রহণের দিন রেখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।