আওয়ামী বিরোধী ভোটে জাতীয় পার্টির নজর

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট টানার চেষ্টা করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। বৃহস্পতিবার সকালে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

চুন্নু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যা ভোট, তার চেয়ে অনেক বেশি অ্যান্টি আওয়ামী লীগ ভোট। কেন্দ্রে যদি ভোটাররা আসতে পারে, তাহলে আমার মনে হয় ৩০০ আসনে দেখা যাবে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেও পারি। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কোনো বাধা ছাড়া এই পরিবেশটা যেন হয় এবং থাকে। এই আশ্বাস আমরা পেয়েছি এবং এতে আমরা আস্থা রাখতে চাই।’

আসন্ন নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে জাতীয় পার্টি। দলটি আগেই ঘোষণা দিয়েছে এবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করবে না তারা।

নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে জাতীয় পার্টি। আগামীকাল শুক্রবার শেষ হচ্ছে মনোনয়ন বিতরণ। একই দিন শুরু হবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। চলবে রোববার পর্যন্ত।

৯০-এর দশকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করেছে দলটি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে জাতীয় পার্টির সহায়তা নেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ১৪৬টি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি এবং বিএনপির আসন ছিল ১১৬টি।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জোট গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায় দলটি। তবে দল ভেঙে একটি অংশ বিজেপি নামে থেকে যায় সেই জোটের সাথে।

২০০৭ সালে জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম ও এলডিপির সাথে জাতীয় পার্টিকেও জোটে নেয় আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই জোট টেকেনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বাদ পড়ে এলডিপি ও গণফোরাম। সে সময় জোটে জাতীয় পার্টিই ছিল আওয়ামী লীগের মূল শরিক।

সেই নির্বাচনে মহাজোটের কাছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কোনো পাত্তাই পায়নি। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এই জোট।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোট করে জাতীয় পাটি। নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও মর্যাদা পায় দলটি। বিরোধী দলে থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সেই সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে সে সময় দলটিকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

এরপর বহুবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত জোটে থেকে যায়। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সাথে অনেকটা সমঝোতা করেই নির্বাচনে আসে তারা। ওই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ২২টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের স্থান ধরে রাখে জাতীয় পার্টি।