৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করছে আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার দুপুরে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় যোগ দিতে দুপুর থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে জড়ো হন হাজার হাজার নেতা–কর্মী। তাদের হাতে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা, ব্যানার এবং প্লাকার্ড। মিছিলে, স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটির সাড়ে সাত দশকের দীর্ঘ যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে শোভাযাত্রার কর্মসূচি।
ঢাক–ঢোল বাজিয়ে শুরু হয় আনন্দ উদযাপন। শোভাযাত্রাটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোড হয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে হটানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দল এগিয়ে যাবে।’
এদিকে, প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে আগামী রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। ভাষণ দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ ১০ রকম কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যা দেশজুড়ে চলবে সারা বছর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নেওয়া।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন থেকে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু। বাঙালির অধিকার আদায়ে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে দলটি।
১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ডাকেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি, স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর সংকটে পরে আওয়ামী লীগ। এরপর ১৯৮১ সালে হাল ধরেন শেখ হাসিনা। জীবন বাজি রেখে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে ও দেশকে।
দেশের সবচেয়ে পুরনো এই দলের ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে জাকজমকপূর্ণ আয়োজন করছে দলটি। থাকছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তিন দিনের অনুষ্ঠান। বছরজুড়ে চলবে সভা-সেমিনার। ২৩ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করবে জনসভা। আমন্ত্রণ জানানো হবে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে।
সম্মাননা জানানো হবে প্রবীণ নেতাদের। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।