আগামী নির্বাচনে নতুন ভোটারদের আকর্ষণ করতে তারুণ্যকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই আন্দোলনে অবদান রাখা যুবনেতাদের সামনে রাখবে বিএনপি। সেইসঙ্গে ফ্যাসিবাদী তরুণদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক দলটি। নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৯০ শতাংশই তরুণ বলে দাবি নেতাদের। আর, ঢাকার বিভিন্ন আসন নবীনদের হাতেই ছেড়ে দিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
আগামী নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে যাচ্ছে তরুণ ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে, দেশে নতুন ভোটার প্রায় ৪৪ লাখ। তাদের টানতে প্রার্থী হিসেবে তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।
বয়সে নবীন এবং নিজ এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা আছে–এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রাখবে বিএনপি। সেইসঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জুলাই অভ্যুত্থানে অবদান রাখা নতুন প্রজন্মের সদস্যরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২৫ বছরের বেশি সবাইকে এক্ষেত্রে গণ্য করা যাবে। কিন্তু তার গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, অভিজ্ঞতা, মেধা, প্রজ্ঞা এবং রাজনীতিতে অবদান বা বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার অংশগ্রহণ এবং বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার অবদান–সবকিছু মিলিয়ে যারা এই ক্যাটাগরির মধ্যে আসবে, তাদেরকে বিবেচনা করাই উত্তম হবে।’
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মূলত তরুণদের নিয়েই গড়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে কমবয়সীরা হয়ে উঠতে পারে তাদের বড় ‘ভোট ব্যাংক’। তাই সভা ও গণজমায়েতে তরুণদের মন জয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নমিনেশনে অনেক তরুণ দেখতে পাবেন। সত্যিকার অর্থেই তারা তরুণ, এখানে ৫০ বছর বয়সী তরুণ দেখতে পাবেন না। একই সঙ্গে আমরা এনসিপি থেকে চেষ্টা করছি, তরুণদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ বয়স্কদের আমরা নেওয়ার চেষ্টা করছি। তাদের নিয়ে একটা এডভাইজরি কাউন্সিল করার চেষ্টা চলছে।’
তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে মরিয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। জাতীয় ও স্থানীয়–দুই নির্বাচনেই তরুণ তুর্কিদের সামনে আনার পরিকল্পনা দলটির।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে তরুণ নেতৃত্ব বাছাই করছি। এটি শুধু জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেই নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও আমরা তরুণদেরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যেহেতু তাদের একটা শক্তি রয়েছে, তাদের একটা সাহস রয়েছে, তাদের উদ্দম রয়েছে, তাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভি আছে, সৃজনশীলতা আছে।’
বিগত তিন বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তরুণ ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তাদের সমর্থন কারা পাচ্ছে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো।